অপরাধ মোচনের সুবর্ণ সুযোগ রামাযান

সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা রাখা কি আবশ্যক?
আলোচক: শাইখ আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী
অডিও আলোচনা ডাউনলোড করুন: (PART-02) From mediafire.com

 

অডিও আলোচনা ডাউনলোড করুন:  From mediafire.com

 

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আয়াতের সরল অনুবাদ:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা কর:একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা, যাতে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের অপরাধগুলোকে মোচন করে দেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করান জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সে দিন আল্লাহ, নবী এবং তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে অপদস্ত করবেন না। তাদের নূর তাদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে ধাবিত হবে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ববিষয়ে মতাবান। (সূরা তাহরীম: ৮)

আয়াতটি অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট:
অত্র আয়াতটি সূরা তাহরীম এর অন্তর্গত, সূরা তাহরীম মদীনায় অবতীর্ণ হয়। অতএব ঈমানদারদের ঈমানী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ হিসাবে কিছু ভুলত্র“টি ঘটে যাওয়া সম্ভব। ভুল ত্রুটি ঘটে গেলে তা শুধরানোর পথ নির্দেশনা নিয়ে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
আলোচ্য আয়াতে কৃত অপরাধ মোচনের অন্যতম মাধ্যম তাওবা নাসূহা এর আলোচনা স্থান পেয়েছে, অনুরূপ আখিরাতে নাবী এবং তাঁর অনুসারী ঈমানদারদের মঙ্গলময় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
……يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا হে ঈমানদারেরা আল্লাহর কাছে একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা কর। এ আয়াত ব্যতীত আরো বহু আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের তাওবা করার নির্দেশ দেন। অতএব তাওবা মুমিনের জন্য একটি অপরিহার্য কাজ। অপর পক্ষে তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর অতি নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। এজন্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রিয় বান্দা হওয়া সত্ত্বেও রাসূল (সা) প্রত্যহ অসংখ্যবার তাওবা করতেন এবং মানব সমাজকে তাওবা করার নির্দেশ দিতেন, সহীহ মুসলিম এর হাদীসে এসেছে রাসূল (সা) বলেন:
ياأيها الناس توبوا إلى الله و استغفروه فإنى أتوب فى اليوم مائة مرة.
“হে মানব সকল তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, কেননা আমি প্রত্যহ একশতবার করে তাওবা করি।” আমাদের পিতা সর্বপ্রথম মানব আদম (আ) কৃত অপরাধের জন্য তাওবা করে পুনরায় আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন।
তাওবাতুন নসূহা এর ব্যাখ্যায় ইবনু উমার ও উবাই বিন কাব (রা) বলেন: অপরাধ হতে এমনভাবে ফিরে আসা এবং পুনরায় ঐ অপরাধে লিপ্ত না হওয়া যেমন স্তন হতে দুধ বের হওয়ার পর দুধ পুনরায় স্তনে ফিরে যায় না।
এ আলোকে বলা হয় যে তাওবা নাসূহা বা একান্ত বিশুদ্ধ তাওবার শর্ত চারটি: (ক) কৃত অপরাধ হতে সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসা (খ) অতীতে ঘটে যাওয়া অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হওয়া, (গ) ভবিষ্যতে এরূপ অপরাধে লিপ্ত না হওয়ার প্রতিজ্ঞা করা এবং (ঘ) মানুষের অধিকার হরণ করে থাকলে তা প্রত্যার্পণ করা। এসব শর্তের আলোকে তাওবা করলে তাকেই বলা হয় তাওবা নাসূহা। তাওবা নাসূহার প্রতিদান হল:
عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ …… বিশুদ্ধ তাওবার জন্য আল্লাহ নিশ্চিতভাবে দুটি প্রতিদান দিবেন (ক) যে অপরাধের জন্য তাওবা করবে সে অপরাধগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। (খ) অতঃপর নিরপরাধ হিসাবে আল্লাহ তাকে তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন। এসব হল সে দিনের কথা যেদিন অপরাধি মুনাফিক কপট ও বে-ঈমানেরা গভীর অন্ধকারে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এবং নাবী ও ঈমানদারদের আল্লাহ বিপর্যস্ত করবেন না, তাঁদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে নূর চমকাতে থাকবে। তারা আরো বলতে থাকবে আমাদের নূরকে সম্পূর্ণ করে দাও এবং অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা আপনিই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।
সুপ্রিয় দীনী ভাই বোনেরা, পবিত্র রামাযান মাস মুমিনদের জন্য বিশুদ্ধ তাওবা করে জীবনের সকল অপরাধ ক্ষমা করে নেয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ, শুধু তাই নয় বরং ক্ষমার পূর্বে রামাযান বিদায় নিলে তার মত হতভাগা আর কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন:
رغم أنف رجل دخل عليه رمضان ثم انسلخ قبل أن يغفرله
“ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হোক অর্থাৎ ধিকৃত ও লাঞ্ছিত হোক যে ব্যক্তির কাছে রামাযান মাস এসেছে কিন্তু স্বীয় অপরাধ ক্ষমা করে নেয়ার পূর্বেই রামাযান বিদায় নিয়েছে। (তিরমিযী হাসান)
অতএব আসুন আমরা হতভাগা না হয়ে রামাযানে যাবতীয় কল্যাণে অগ্রগামী হয়ে এবং কৃত অপরাধ মোচন করে নিয়ে সৌভাগ্যবান হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।স

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আয়াতের সরল অনুবাদ:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা কর:একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা, যাতে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের অপরাধগুলোকে মোচন করে দেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করান জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সে দিন আল্লাহ, নবী এবং তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে অপদস্ত করবেন না। তাদের নূর তাদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে ধাবিত হবে, তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ববিষয়ে মতাবান। (সূরা তাহরীম: ৮)

আয়াতটি অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট:
অত্র আয়াতটি সূরা তাহরীম এর অন্তর্গত, সূরা তাহরীম মদীনায় অবতীর্ণ হয়। অতএব ঈমানদারদের ঈমানী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ হিসাবে কিছু ভুলত্র“টি ঘটে যাওয়া সম্ভব। ভুল ত্রুটি ঘটে গেলে তা শুধরানোর পথ নির্দেশনা নিয়ে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
আলোচ্য আয়াতে কৃত অপরাধ মোচনের অন্যতম মাধ্যম তাওবা নাসূহা এর আলোচনা স্থান পেয়েছে, অনুরূপ আখিরাতে নাবী এবং তাঁর অনুসারী ঈমানদারদের মঙ্গলময় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
……يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا হে ঈমানদারেরা আল্লাহর কাছে একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা কর। এ আয়াত ব্যতীত আরো বহু আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের তাওবা করার নির্দেশ দেন। অতএব তাওবা মুমিনের জন্য একটি অপরিহার্য কাজ। অপর পক্ষে তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর অতি নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। এজন্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রিয় বান্দা হওয়া সত্ত্বেও রাসূল (সা) প্রত্যহ অসংখ্যবার তাওবা করতেন এবং মানব সমাজকে তাওবা করার নির্দেশ দিতেন, সহীহ মুসলিম এর হাদীসে এসেছে রাসূল (সা) বলেন:
ياأيها الناس توبوا إلى الله و استغفروه فإنى أتوب فى اليوم مائة مرة.
“হে মানব সকল তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, কেননা আমি প্রত্যহ একশতবার করে তাওবা করি।” আমাদের পিতা সর্বপ্রথম মানব আদম (আ) কৃত অপরাধের জন্য তাওবা করে পুনরায় আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন।
তাওবাতুন নসূহা এর ব্যাখ্যায় ইবনু উমার ও উবাই বিন কাব (রা) বলেন: অপরাধ হতে এমনভাবে ফিরে আসা এবং পুনরায় ঐ অপরাধে লিপ্ত না হওয়া যেমন স্তন হতে দুধ বের হওয়ার পর দুধ পুনরায় স্তনে ফিরে যায় না।
এ আলোকে বলা হয় যে তাওবা নাসূহা বা একান্ত বিশুদ্ধ তাওবার শর্ত চারটি: (ক) কৃত অপরাধ হতে সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসা (খ) অতীতে ঘটে যাওয়া অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হওয়া, (গ) ভবিষ্যতে এরূপ অপরাধে লিপ্ত না হওয়ার প্রতিজ্ঞা করা এবং (ঘ) মানুষের অধিকার হরণ করে থাকলে তা প্রত্যার্পণ করা। এসব শর্তের আলোকে তাওবা করলে তাকেই বলা হয় তাওবা নাসূহা। তাওবা নাসূহার প্রতিদান হল:
عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ …… বিশুদ্ধ তাওবার জন্য আল্লাহ নিশ্চিতভাবে দুটি প্রতিদান দিবেন (ক) যে অপরাধের জন্য তাওবা করবে সে অপরাধগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। (খ) অতঃপর নিরপরাধ হিসাবে আল্লাহ তাকে তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন। এসব হল সে দিনের কথা যেদিন অপরাধি মুনাফিক কপট ও বে-ঈমানেরা গভীর অন্ধকারে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এবং নাবী ও ঈমানদারদের আল্লাহ বিপর্যস্ত করবেন না, তাঁদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে নূর চমকাতে থাকবে। তারা আরো বলতে থাকবে আমাদের নূরকে সম্পূর্ণ করে দাও এবং অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা আপনিই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।
সুপ্রিয় দীনী ভাই বোনেরা, পবিত্র রামাযান মাস মুমিনদের জন্য বিশুদ্ধ তাওবা করে জীবনের সকল অপরাধ ক্ষমা করে নেয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ, শুধু তাই নয় বরং ক্ষমার পূর্বে রামাযান বিদায় নিলে তার মত হতভাগা আর কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন:
رغم أنف رجل دخل عليه رمضان ثم انسلخ قبل أن يغفرله
“ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হোক অর্থাৎ ধিকৃত ও লাঞ্ছিত হোক যে ব্যক্তির কাছে রামাযান মাস এসেছে কিন্তু স্বীয় অপরাধ ক্ষমা করে নেয়ার পূর্বেই রামাযান বিদায় নিয়েছে। (তিরমিযী হাসান)
অতএব আসুন আমরা হতভাগা না হয়ে রামাযানে যাবতীয় কল্যাণে অগ্রগামী হয়ে এবং কৃত অপরাধ মোচন করে নিয়ে সৌভাগ্যবান হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

Leave a comment