রামাযান: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাস”

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ
لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর সিয়াম পালন করা ফরয করে দেয়া হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল, যেন তোমরা সংযমশীল হতে পার। (সূরা আল বাকারা: ১৮৩)

আয়াত অবতরণের প্রেক্ষাপট:
আলোচ্য আয়াতটি সূরাতুল বাকারার অন্তগর্ত। সূরাতুল বাকারা মাদানী সূরা অর্থাৎ মাদীনায় অবতীর্ণ হয়। মূলত: রামাযানের সিয়াম মদীনাতেই প্রবর্তন হয়। মক্কা জীবনে অন্য সিয়াম বা রোযা ছিল কিন্তু রামাযানের রোযা ছিলনা। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে রামাযান মাসের রোযা রাখা ফরয সাব্যস্ত হয়।

আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
আয়াতে ইসলামের একটি অন্যতম রোকন রামাযান মাসের সিয়াম সাধনা এবং এ সিয়াম হতে আমাদের শিক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও উপকারিতার বিষয় সম্পর্কিত আলোচনা স্থান পেয়েছে।

আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা শুধুমাত্র ঈমানদারদেরকে সম্বোধন করে বিধান জারি করেছেন। অতএব ঈমান না আনা পর্যন্ত এ বিধানের আওতাভুক্ত নয়। এজন্য রোযা ফরয হওয়ার প্রথম শর্ত হল ঈমান আনা। সুতরাং প্রতিটি ঈমানদার প্রাপ্ত বয়স্ক, জ্ঞানবান, সুস্থ্য, পবিত্র ও মুকীম (স্বগৃহে অবস্থানকারী) ব্যক্তির উপর রামাযান মাস আসলেই রামাযানের রোযা রাখা ফরয। এ রোযা ইসলামে যেমন একটি ইবাদাত হিসাবে ফরয করা হয়েছে পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তথা ইয়াহুদ, খ্রীষ্টান ইত্যাদি জাতি সমূহের উপরও রোযা জাতীয় ইবাদাত ফরয ছিল। অবশ্য পদ্ধতিগত সবই হুবহু আমাদের মত ছিল না কিছুটা ভিন্ন ছিল কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলি একই ছিল।
অতঃপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা রামাযানের রোযা পালনে যে উপকারিতা রয়েছে তার একটা অন্যতম দিক তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ যদি তোমরা রোযা পালন কর তাহলে সংযমী হতে পারবে, মুত্তাকী হতে পারবে বা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারবে। আর তাকওয়া এমন একটি গুণ যার ফলে উভয় জগতেই রয়েছে সফলতা। আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে মুত্তাকীদের ইহকালীন সফলতা বর্ণনা করেছেন যেমন সূরা বাকারার শুরুর দিকে বলেন:
أُوْلَـئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَآئِمٌ وِظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَواْ وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ
মুত্তাকিদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হল ….। (সূরা রাদ: ৩৫)
আরো বলেন:
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا
“সেই জান্নাত যার উত্তারাধীকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মুত্তাকি তাদেরকে। (সূরা মারয়াম: ৬৩)। অতএব রামাযান মাসের সিয়াম সাধানার মাধ্যমে যারা তাকওয়ার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে তাদের জন্যই সু-সংবাদ, তারাই সফলকাম “তাকওয়া” কাকে বলে এর বিস্তারিত ব্যখ্যা এখানে আলোচনা সম্ভব নয় তবে “তাকওয়ার” ব্যাখ্যা যে রূপই দেয়া হোকনা কেন এর মূল হলো দু’টি বিষয়: প্রথম আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সা) নিদের্শ সমুহ পালন করা।
দ্বিতীয়:আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সা) নিষেধ সমূহ হতে বিরত থাকা। এর নামই হল তাকওয়া। কোন বিশেষ বেশ ভূষণ বা ভাব-ভঙ্গিমার নাম তাকওয়া নয়, আর তাকওয়া হল উপযুক্ত দুটি বিষয় অবলম্বনের নাম। এ দুটি বিষয় পালনে যা পালন ও বর্জনের প্রয়োজন তার নামই হল “তাকওয়া”।
এতএব রামাযান এমন একটি মাস, যে মাসেই সম্ভব হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) নির্দেশ পালনে অগ্রগামী হওয়া এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) নিষিদ্ধ বিষয় হতে বিরত থাকা। এর মাধ্যমেই সম্ভব এবং বিশেষ সুযোগ এ মাসে সৎকর্ম পালন ও অসৎ কর্ম বর্জন এর শিক্ষা ও প্রশিক্ণ গ্রহণ করা। হে আল্লাহ সমগ্র মুসলিম সমাজকে দীন হীনতা বর্জন করে এ পবিত্র ও বরকতময় রামাযান মাসে দীনের শিক্ষা ও প্রশিক্ণ গ্রহণ করে পূর্ণভাবে দীনের প্রতি ফিরে আসার তাওফীক দান করুন, আমীন।

আলোচনায়-
(শাইখ আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী)
অধ্যক্ষ – মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা-১০০০।
ও আলোচক- পিস.টিভি বাংলা।
মোবাইল: ০১৭১৫-৩৭২১৬১

(অত্র ওয়েবসাইটের এডিটর)
(আবু তালিব বিন ইসহাক)
শিক্ষক – মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭২৬-৯৪২৮৫১
স্কাইপ: abu.talib851

পড়ার পর শেয়ার করতে ভুলবেন না————–

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

Leave a comment