“বরকতময় রজনী কোনটি?”

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
حم – وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ – إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ – فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ – أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ – رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ – رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِن
كُنتُم مُّوقِنِينَ
————————————————————–
আয়াতের সরল অনুবাদ:
(১) হা-মীম, (২) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, (৩) আমি একে নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী, (৪) এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফায়সালা হয় (৫) আমার আদেশক্রমে, আমিতো রাসূল প্রেরণ করে থাকি। (৬) তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমাত স্বরূপ, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ৭। তিনিই নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদূভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।” (সূরা দুখান, ১-৭)

আয়াত সমূহ অবতরণের প্রেক্ষাপট:
আলোচ্য আয়াতসমূহ সূরা “দুখান” এর প্রথম দিকের আয়াত। সূরা দুখান সকলের ঐকমত্যে মাক্কী সূরা, অতএব ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন কুরআন আল্লাহর বাণী এবং আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়ে আসা গ্রন্থ এ সত্যতা প্রমাণ ও প্রতিষ্ঠার পর্ব, এমন সময়েই আলোচ্য আয়াতগুলি অবতীর্ণ হয়।

আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
উল্লেখিত আয়াতগুলিতে যে সব বিষয়ের আলোচনা স্থান পেয়েছে তা হলঃ পবিত্র কুরআনের বৈশিষ্ট্য, কুরআন অবতরণের সময়কাল। বরকতময় বা কদরের রাতের বর্ণনা এবং নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও সবকিছুর একমাত্র প্রতিপালক মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও ইয়াকীন আনয়ন প্রসঙ্গে।

আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
(১) হামীম, এ আয়াতের সঠিক অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
(২) সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ, এখানে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল আল কুরআনুল কারীম, কারণ কুরআনই হক এবং বাতিলকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছে, সত্য ও মিথ্যাকে চিহ্নিত করে দিয়েছে।
(৩) আমি একে (কুরআনকে) নাযিল করেছি বরকতময় রাতে। বরকতময় রাতটি হল কদরের রাত, যা আল্লাহ তা‘আলা সূরা কদর এবং সূরা বাকারায় আলোকপাত করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।
(৪-৬) এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফায়সালা হয়, অর্থাৎ চলতি কদরের রাত হতে আগামী কদরের রাত পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহের আল্লাহর পক্ষ হতে ফয়সালা হয়, ইহা মূলতঃ লাওহে মাহফুযে পূর্বহতেই লিখিত রয়েছে, সে লিখনের আলোকেই ফেরেশতাদের মাঝে প্রকাশ করা হয়। আর মহান আল্লাহ তা‘আলার প হতে বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহস্বরূপ তিনি রাসূল প্রেরণ করেন যাঁরা তাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করবেন।
৭। আর যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাসী হও তাহলে জেনে রাখ যিনি বরকতময় রজনীতে কুরআন আবতীর্ণ করেছেন এবং সকল সৃষ্টির ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন তিনিই হলেন একমাত্র নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে সবকিছুর স্রষ্টা, মালিক ও প্রতিপালক। অতএব এসব প্রমাণ করে যে একমাত্র তাঁরই দাসত্ব করা উচিত।

বরকতময় রজনী কোনটি?
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বরকতময় রজনীতে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, অতএব বরকতময় রজনীটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রজনী। এ রজনীটি কোন মাসে? এবং কত তারিখে? এ নিয়ে কিছু সংখ্যক মানুষ নিজেদের খেয়াল খুশী অনুযায়ী এ আয়াতের অপব্যাখ্যা করে শাবান মাসের ১৫ ই রাতকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। মূলতঃ এ অপব্যাখ্যা কুরআন ও সহীহ হাদীস পরিপন্থী ব্যাখ্যা, কারণ কুরআন ও সহীহ হাদীসে এর সমর্থনে কোন নির্ভরযোগ্য আলোচনা পাওয়া যায়না।
উল্লেখ্য যে, কুরআনের কোন আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা জানার জন্য তাফসীরের কতগুলি নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন, নচেত সঠিক তাফসীর হতে বঞ্চিত হবেন। যার দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যেতে পারে সূরা দুখানের আলোচ্য ৩ নং আয়াত। সঠিক তাফসীরের নীতিমালা সমূহ নিম্নরূপ:
(ক) প্রথমতঃ কুরআনের তাফসীর কুরআন দিয়ে। কারণ কুরআন সম্পর্কে যিনি সবচেয়ে বেশী জানেন তিনি হলেন স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা কেননা কুরআন তাঁরই বাণী এতএব তিনি কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা সবচেয়ে বেশী জানেন, সুতরাং কুরআনের তাফসীরের সময় আমাদেরকে লক্ষ্য করতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা এর ব্যাখ্যামূলক কোন বর্ণনা দিয়েছেন কি না, যদি পাওয়া যায় তাহলে সে ব্যাখ্যাই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা হবে। যদি কুরআনে কোন ব্যাখ্যামূল আলোচনা পাওয়া না যায় তখন দেখতে হবে সহীহ হাদীসের ব্যাখ্যা।
(খ) দ্বিতীয় পর্যায়ে আল্লাহর পরই মাখলুকের মাঝে যিনি কুরআন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জানেন তিনি হলেন রাসূল (সা)। যাঁর উপর এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাঁর মাধ্যমেই কুরআন প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে, মূলতঃ তাঁকেই কুরআনের ব্যাখ্যাকারী হিসাবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাঁকেই এ ব্যাখ্যার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যেমন আল্লাহ বলেন:
وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ

“আর তোমার প্রতি উপদেশ বাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তুমি তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিতে পার, ফলে তারা চিন্তা গবেষণা করবে।” সূরা নাহল: ৪৪]
অতএব আল্লাহর ব্যাখ্যার পরই হল রাসূল (সা) এর ব্যাখ্যা, তবে রাসূল (সা) এর ব্যাখ্যা সঠিক ও নির্ভুল সূত্রে প্রমাণিত হতে হবে। রাসূল (সা) এর নাম দিয়ে কোন যাল যঈফ সূত্রে প্রমাণিত হলে চলবেনা। হতে হবে সহীহ হাদীস অর্থাৎ বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত।
(গ) যদি রাসূল (সা) এর হাদীসে ব্যাখ্যা পাওয়া না যায় তাহলে দেখতে হবে সাহাবায়ে কিরামদের হতে কোন ব্যাখ্যা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত আছে কিনা? কারণ। সাহাবীগণ এর ভাষায় এবং তাঁদের প্রত্য দর্শনেই এমনকি অনেক বিষয় তাদেরকে কেন্দ্র করেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব পরবর্তী সকলের চেয়ে তাঁদের হতে প্রমাণিত তাফসীর বা ব্যাখ্যা হল প্রাধান্যযোগ্য।
(ঘ) অতঃপর যদি সাহাবীদের হতে উল্লেখযোগ্য কোন তাফসীর পাওয়া না যায় তখন দেখতে হবে সাহাবীদের হতে যারা সরাসরি শিালাভ করেছেন তারা এর কি ব্যাখ্যা বা তাফসীর করেছেন? অর্থাৎ প্রসিদ্ধ তবেঈদের তাফসীর বা ব্যাখ্যা।
উপযুক্ত চারটি নীতিমালা ক্রমান্বয়ে অবলম্বন করলে ইনশাআল্লাহ কুরআনের সঠিক তাফসীর অবগত হওয়া সম্ভব হবে। অবশ্য সাহাবী ও তাবেঈদের তাফসীরের ক্ষেত্রে আরেকটি শর্ত হল তাদের তাফসীর কুরআন ও রাসূল (সা) এর তাফসীরের পরিপন্থী হতে পারবে না। যদি হয় তাহলে ঐ তাফসীর কখনও গ্রহণযোগ্য হবেনা।

এখন আসুন আমরা উপযুক্ত নীতিমালার আলোকে জেনে নেই বরকতময় রজনী কোনটি? বা إناأنزلناه فى ليلة مباركة “আমি একে (কুরআনকে) বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি।” এ আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কি? পবিত্র কুরআন, রাসূলের হাদীস ও সাহাবী এবং তাবেঈর বক্তব্যের আলোকে আলোচ্য আয়াতের তাফসীর কি? কারণ প্রচলিত সমাজে কিছু নামধারী আলিম বরকতময় রাত দ্বারা শবে বরাত বা শাবান মাসের ১৫ তম রাতকে বলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং স্বপে সূরা দুখানের আলোচ্য আয়াতটি প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করেন। আমরা যদি সঠিক তাফসীরের নীতিমালার আলোকে আলোচ্য আয়াতের তাফসীর করতে যাই তাহলে প্রচলিত সমাজের ধোকাবাজ আলীদের তাফসীরের অসারতা প্রকাশ হয়ে যাবে এবং তাদের বাতুলতা প্রমাণিত হয়ে যাবে।

আসুন আমরা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচ্য আয়াতটির সঠিক তাফসীর জানার চেষ্টা করি:
আল্লাহ তা‘আলা সূরা দুখানের আয়াতে বলেন: আমি বরকত ময় রজনীতে কুরআন অবতীর্ণ করেছি। এখানে শুধু রজনীর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ রজনীটি বরকতময়, রজনীটির নাম, তারিখ ও মাস কিছুই উল্লেখ করেননি। এখন এ আয়াতের সঠিক তাফসীর জানতে হলে অর্থাৎ রজনীটির নাম ও মাস বের করতে হলে প্রথমে কুরআনে খুঁজতে হবে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই এর কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়েছেন কিনা? অর্থাৎ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কোন রাত ও মাস উল্লেখ করেছেন কিনা? আমরা এ প্রশ্নের জবাবে বলতে পারি হ্যাঁ আল্লাহ তা‘আলা অন্য সূরায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার রাত ও মাস নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
নিশ্চয় আমি কদরের রাতে একে (কুরআনকে) অবতীর্ণ করেছি। (সূরা আল কাদর: ১)
সূরা কাদরের ১ম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার রাত সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে দিলেন, তা হলো লাইলাতুল কদর বা কাদরের রাত, এতএব বরকতময় রাতটি হলো কদরের রাত। আল্লাহ তা‘আলা নিজেই “বরকতময়” রাতটির অস্পষ্টতা দূর করে সুস্পষ্ট করে দিলেন যে, সে রাতটি হলো কদরের রাত। আর সকলেই একমত যে, কদরের রাত হল রামাযান মাসে অন্য মাসে নয়। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা নিজেই অন্যত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস ঘোষণা দিচ্ছেন, তিনি বলেন:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ
“রামাযান মাস যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। (সূরা বাকারাহ: ১৮৫)
অতএব কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস হল রামাযান মাস আর রাত হল কদরের রাত, এতে কোন বৈপরিত্য নেই। এ সংবাদ হল সত্য ও নির্ভেজাল যাতে সামান্য সন্দেহের অবকাশ নেই। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার বক্তব্য অনুযায়ী বরকতময় রাতটি হল কদরের রাত যা রামাযান মাসে, শাবান মাসে নয়। এর পরও কেউ যদি বলতে চায় যে, বরকতময় রাতটি শবে বরাত আর মাসটি সে অনুযায়ী হবে শাবান মাস তাহলে তাকে অবশ্যই অকাট্য ও নির্ভেজাল প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, নচেৎ তার দাবী মিথ্যা ও ভ্রান্ত এবং কুরআনের প্রকাশ্য বিরোধী যা কখনও কোন মুসলমানের জন্য শোভা পায়না।
ইমাম কুরতুবী (রহ) কতইনা সুন্দরভাবে বলেছেন।” অধিকাংশের কথা হল বরকতময় রাতটি লাইলাতুল কদর, তবে কেউ বলেছেন, উহা শবে বরাত, মূলতঃ ইহা বাতিল কথা কারণ আল্লাহ তা‘আলা অকাট্যভাবে কুরআনে উল্লেখ করেন যে, কুরআন নাযিলের মাস হল রামাযান মাস (শাবান নয়), অতঃপর রাতটির কথাও নির্দিষ্ট করে বলেছেন। এরপরও কেউ যদি অন্য কিছু ধারণা করে তাহলে সেটা আল্লাহর উপর এক বড় ধরনের মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে শাবান মাসের মধ্য রাতের বিশেষ ইবাদাতের ফযিলত বা সে রাতটি রুটি-রুযি বন্টনের রাত হিসাবে কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়নি অতএব তোমরা সেদিকে কোন ভ্রুপে করনা।” (আল জামি লি আহকামিল কুরআন, ১৬/১১২ পৃষ্ঠা)। ইমাম ইবুন কাছীর (রহ) একই ভাবে কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসীর করেছেন: কুরআন নাযিলের মাস রামাযান, আর রাত হল লাইলাতুল কদর, পান্তরে শাবানের মধ্যরাত সম্পর্কিত সকল প্রমাণাদি অগ্রহণযোগ্য। (ইবনু কাছীর ৪/১৪৫ পৃষ্ঠা)। পরবর্তী যুগের মুফাস্সিরদের অন্যতম ইমাম শাওকানী (রহ) বলেন: এ বিষয়ে হক কথা হল অধিকাংশ মুফাসসিরগণ যে মতটি ব্যক্তি করেছেন, অর্থাৎ বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর, শাবান মাসের মধ্যরাত নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সূরা দুখানে অস্পষ্ট ভাবে বললেও সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে এবং সূরা কদরের ১ নং আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন এতএব এরপর আর কোন সংশয় দ্বিধা-দন্দ থাকতে পারে না।” (ফাতহুল কাদীর ৪/৭৪৪)।
অতএব শুধু প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থে নয় এমনকি চৌদ্দশতাব্দীর মানুষ ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফী মাযহাবের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আল্লামা আশরাফ আলী থানবীও (১৩৬২ হিজরী) বলেনঃ “অধিকাংশ তাফসীর কারকই (রহ) বরকতময় রজনীকে রাইলাতুল কদর বলে তাফসীর করেছেন এবং এ সম্পর্কে হাদীসও যথেষ্ট রয়েছে। …… আর কেউ কেউ বলেছেন বরকতময় রাত হল শবে বরাত কিন্তু যেহেতু শবে বরাতে কুরআন নাযিল হয়েছে বলে কোন বর্ণনা নেই বরং শবে কদরে কুরআন নাযিল হয়েছে বলে স্বয়ং কুরআনের ঘোষণা “নিশ্চয়ই আমি তা লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি” আয়াতেই উল্লেখ রয়েছে সেহেতু বরকতময় রজনী শবে বরাত বলে তাফসীর করা শুদ্ধ নয় বলে মনে হয়।” (তাফসীর-ই আশরাফী ৫/৬১৬ পৃষ্ঠা)
সুতরাং সঠিক তাফসীর এর নীতিমালা “কুরআন দিয়ে কুরআন এর তাফসীর করা” অতএর প্রথম নীতির মাধ্যমেই আমরা সূরা দুখানের বরকতময় রজনীটির সঠিক পরিচয় পেয়ে গেলাম অর্থাৎ তা হলো লাইলাতুল কদর, যা রয়েছে রামাযান মাসে। অতএব বরকতময় রজনীকে শবে বরাত বলে তাফসীর করা এক বাতিল তাফসীর ও কুরআনের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যদি রাসূল (সা) এর সহীহ হাদীস, প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, ইবনু ওমার, আবূ হুরাইরা (রা) প্রভৃতি সাহাবীদের হতে সঠিক বর্ণনা এবং প্রসিদ্ধ তাবেঈ মুজাহিদ প্রমুখের বর্ণনার আলোকে জানতে চাই তাহলেও একইভাবে সঠিক ও নির্ভুল তাফসির প্রমাণিত হয়। অতএব যারা কুরআনের অপব্যাখ্যা করে শবে বরাতকে বড় করে দেখতে চান, প্রমাণিত হল যে, আল্লাহর বাণী কুরআনে তাদের কোন ঠাঁই নেই। কুরআনে তাদের কোন সমর্থন নেই। কুরআনুল কারীমে যদি শবে বরাতের কোন অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে কি রাসূল (সা) এর হাদীসে রয়েছে? জবাব না, রাসূল (সা) শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোন নামায, রোযা, যিয়ারাত, তাসবীহ-তাহলীল ও ইবাদাত বন্দেগী করেছেন এর কোন সহীহ প্রমাণ নেই। বরং তিনি (সা) বলেছেন শাবান মাসের শুরু হতে বেশী বেশী রোযা রাখা সুন্নাত। কিন্তু শুধু ১৪ ও ১৫ শাবান শবে বরাত উপলে রোযা রাখা, খাস ভাবে সে রাত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে সালাত ও ইবাদাত করা গুমরাহী বিদআত, যা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা রাসূল (সা) ও সাহাবায়ে কেরাম কারো হতেই সহীহ সূত্রে শবে বরাতে কোন বিশেষ ইবাদাত করেছেন বা করার অনুমতি দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়নি সুতরাং বরাতের বিশেষ ইবাদাত ইসলামের কোন ইবাদাত নয়। হে আল্লাহ প্রচলিত সমাজের রসম রেওয়াজ বর্জন করে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আমাদের যাবতীয় ইবাদাত সম্পাদন করার তাওফীক দান করুন। আমীন

[পড়ার পর শেয়ার করতে ভুলেবন না]

লেখক:

(আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী)
অধ্যক্ষ
মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা, বাংলাদেশ।
এবং
আলোচক, পিস.টি.ভি বাংলা।

এডিটর ও মডারেটর:
আবু তালিব
শিক্ষক,মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০১৯২২-০৮২২২৫

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

Leave a comment