“সর্ব প্রথম দাওয়াত হতে হবে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি” (2)

by shahidullah on May 19, 2012

in আকীদাহ, বাংলা, আরবী

[পূর্ব প্রকাশের পর]
দাওয়াতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
ইসলাম বা আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয়া একটি অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা নতুন করে বলার অপো রাখেনা। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ইসলাম বিরোধীদের অপতৎপরতা যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইসলামের প্রতি দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ

“তিনি (আল্লাহ) সকল বাতিল দীন ধর্মের উপর হক্ক দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।” সূরা সাফ: ০৯
অতএব বাতিল দীন ধর্মের উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে হলে অবশ্যই ইসলামের দাওয়াত বা প্রচার প্রসার বৃদ্ধি পেতে হবে। আর ইসলামের দাওয়াত কখনও সফল হতে পারেনা যতণনা ইসলামের ধারক বাহক নবী রাসূলদের পদ্ধতি অনুসরণে দাওয়াত দেয়া হবে। তাঁদের দাওয়াতী পদ্ধতির অন্যতম বিষয় হল সর্বপ্রথম ঈমান ও ইসলামের মূল বুনিয়াদ বা ভিত্তির দাওয়াত প্রদান করা, অর্থাৎ আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদের দাওয়াত দেয়া।
প্রথম দাওয়াত হতে হবে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি:
পৃথিবীর বুকে অসংখ্য ধর্ম ও মতবাদের মাঝে একমাত্র সঠিক দীন বা জীবনাদর্শ হল ইসলাম, কারণ ইহা কোন সৃষ্টি জীবের চিন্তা চেতনা দিয়ে গড়া নয়, বরং ইহা হলো সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, প্রতিপালক ও পরিচালক মহান আল্লাহ তা‘আলার প হতে দেয়া এক পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, সকল ধর্ম যেমন আল্লাহর প হতে না হওয়ার কারণে সঠিক ও নির্ভেজাল নয়। ঠিক তেমনি ইসলামের মূল বিষয় হল তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদে সঠিক হতে হবে। আর তাওহীদ ততণ পর্যন্ত সঠিক হবে না, যতণ পর্যন্ত তাওহীদের প্রতি দাওয়াত সঠিক না হয়। এজন্য প্রথম দাওয়াত হতে হবে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি। নিম্নে তাওহীদের প্রতি দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তার দিকগুলি তুলে ধরা হল:
জিন ও ইনসান: সৃষ্টির একক উদ্দেশ্য তাওহীদ প্রতিষ্ঠা:
আল্লাহ তা‘আলা জিন ও ইনসানকে কি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন তা উদঘাটনের জন্য কোন গবেষকের গবেষণার প্রয়োজন নেই, কারণ আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তা ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বলেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আর আমি জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি এজন্যই যে, তারা শুধুমাত্র আমারই ইবাদাত করবে।” সূরা যারিয়াত: ৫৬
মুফাস্সির প্রধান আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন ঃ ليعبدون অর্থাৎ ليوحدون তারা শুধুমাত্র আমার তাওহীদ বা একত্ববাদ বাস্তবায়ন করবে। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
“তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খালেস মনে একনিষ্টভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে, সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত দিবে।” সূরা বাইয়্যনাহ : ৫
অতএব জিন ও ইনসান সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হল আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ বা একত্ববাদ বাস্তবায়ন করা। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আল্লাহ তা‘আলা অগণিত নাবী ও রাসূল প্রেরণ করেন।
রাসূল প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য হল তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও শিরকের মূলোৎপাটন:
মানুষ যখন সঠিক পথ হতে পদস্খলিত হয়ে বিপথগামী হয়ে পরে, তখন আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল হয়ে প্রতি জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেন, যাদের রিসালাতের মূল কর্মসূচী হলো দুটি এক শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে তাওহীদ বাস্তবায়ন করা, দুই যাবতীয় শিরক বর্জন করে, তাওহীদের পরিপূর্ণ রূপদান করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ
“নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির মাঝে রাসূল প্রেরণ করেছি যে, (তারা বলবে) তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত কর এবং যাবতীয় তাগুত/শিরক হতে বিরত থাক। সূরা নাহল: ৩৬
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
“আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তাকে এ প্রত্যাদেশ দিয়েছি যে, আমি ব্যতীত সত্যিকার কোন মাবুদ নেই, সুতরাং আমারই ইবাদত কর।” সূরা আম্বিয়া ঃ ২৫
অতএব রাসূল প্রেরণের মোম উদ্দেশ্য কি? তা বলার অপো রাখেনা, তাই দেখা যায় সকল রাসূল একই সুরে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন।

চলবে——-
/www.aldinalislam.com/kitabut-tawheed-e06p02of02/

” target=”_blank”>www.youtube.com/embed/VB78rEfpHSM” frameborder=”0″ allowfullscreen>

” target=”_blank”>www.youtube.com/embed/nk2JO3qW_ss” frameborder=”0″ allowfullscreen>

” target=”_blank”>www.youtube.com/embed/x-e_Qi4TVcI” frameborder=”0″ allowfullscreen>

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

{ 0 comments… add one now }

Previous post:

Next post: