“সর্ব প্রথম দাওয়াত হতে হবে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি” (1)

আল্লাহ তাআলার বাণী: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى اللّهُ وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ فَسِيرُواْ فِي الأَرْضِ فَانظُرُواْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
আয়াতের সরল অনুবাদ:
“নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির মাঝে (এ দাওয়াতের জন্য) রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত কর এবং যাবতীয় তাগুত হতে বিরত থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্য ভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।” (সূরা আন নাহল: ৩৬)
আয়াত অবতারণের প্রোপট:
আলোচ্য আয়াতটি পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আন-নাহল এর অন্তর্গত। আর সূরা আন-নাহল মাক্কী সূরা, অতএব আয়াতটি মক্কার ঐ প্রোপটে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন মুশরিক সমাজকে যাবতীয় তাগুত/শির্ক বর্জন করে একমাত্র আল্লাহর তাওহীদ/একত্ববাদের প্রতি প্রদর্শিত হওয়ার আহবান জানানো হচ্ছিল।
আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
আয়াতটির আলোচ্য বিষয় নিম্নরূপ:
ক) সকল জাতির প্রতি রাসূল প্রেরণ।
খ) রাসূলদের দাওয়াত ছিল একমাত্র আল্লাহর ইবাদত তথা তাওহীদকে আঁকড়িয়ে ধরা এবং তাওহীদ বিধ্বংশী যাবতীয় তাগুত/শির্ক সম্পূর্ণ রূপে বর্জন করা।
গ) মানুষের হিদায়াত ও গুমরাহী সবই আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় হয়ে থাকে।
ঘ) তাওহীদ অস্বীকার কারীদের অশুভ পরিণতির অবস্থা দেখে শিা গ্রহণ করে তাওহীদের পথে ফিরে আসা।
আয়াতের সংপ্তি তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য, কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় মানব জাতি যখন সঠিক পথ হতে বিমুখ হতে শুরু করে তখনই আল্লাহ তা‘আলা তাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য নবী রাসূল প্রেরণ করেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
ولقد بعتنا فى كل امة رسولا
“নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির মাঝে রাসূল প্রেরণ করেছি।” আল্লাহর প হতে প্রেরিত রাসূলদের পৃথিবীর বুকে কোন সম্রাজ্য প্রতিষ্টা করাই মূল ল্য বা উদ্দেশ্য ছিলনা, বরং তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিপথগামী মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসা এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদের দাওয়াতের মূল কর্মসূচী দিয়েছেন- একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত এর প্রতি আহ্বান এবং ঈমান ও আমল বিনষ্টকারী মহা অপরাধ শিরক হতে বিরত থাকার আহ্বান। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদের দাওয়াত বাণী তুলে ধরে বলেন “(তারা স্বীয় জাতিকে বলবে)
أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت
যে তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত কর (অর্থাৎ তাওহীদ বা একত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত হও) এবং যাবতীয় তাগুত/শিরক হতে বিরত থাক।” তাগুতের সজ্ঞায় ইমাম শাওকানী (র) বলেন
وكل معبود دون الله كالشيطان والكاهن والصنم كل من دعا إلى الضلال
“আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সকল উপাস্য যেমন শয়তান, জ্যেতিষী, গণক, প্রতিমা, এছাড়াও পথভ্রষ্ঠতার প্রতি যারা আহ্বান জানায় তারাও তাগুত এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। (ফতহুল কাদীর: ৩/২২৩)
মোট কথা তাঁদের দাওয়াত ছিল তাওহীদ বা একত্ববাদ পালনের এবং তাগুত/ শিরক ও সকল প্রকার তাওহীদ বিরোধী ইসলাম গর্হিত কর্মকান্ড হতে বিরত থাকার। মানুষের কর্তব্য হল দাওয়াত প্রদান করা, মূলতঃ আল্লাহ তা‘আলার হাতেই মানুষের হিদায়াত ও পথভ্রষ্ঠতা, এজন্যই আল্লাহ বলেন:
فمنهم من هدى الله ومنهم من حقت عليهم الضلالة
“অতপর তাদের কিছু সংখ্যককে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়াত দিয়েছেন এবং কিছু সংখকের জন্য পথভ্রষ্ঠতা অবধারিত হয়ে গেছে।” আর যারা সঠিক পথ প্রদর্শিত হওয়ার চেষ্টা করেনি ফলে হিদায়ত হতে বঞ্চিত হয়েছে এবং দুনিয়াতেই তাদের করুণ পরিণতি ঘটেছে, এতে রয়েছে সাধারণ মানুষের উপলব্ধি ও শিার বিষয়। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
فسيروافى الأرض فانظروا كيف كان عاقبة المكذبين
“সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।”

(চলবে——-)

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

Leave a comment