~~|| ||আদ-দ্বীন আল-ইসলাম ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম|| ||~ ~* * * “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অগ্রে কোন কিছু প্রাধান্য দিও না, আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন। ” [সূরা আল হুজরাত : ১] * * * “অতঃপর তোমার রবের কসম তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফায়সালাকারী হিসাবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারেও তারা কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবূল করে নিবে।” [সূরা নিসা : ৬৫] * * * “যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” [সূরা নিসা : ৫৯] * * * সাহাবী আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন : “তোমাদের মাঝে দু’টি বিষয় রেখে গেলাম যতক্ষণ সে দু’টি আঁকড়ে ধরে থাকবে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহ তা’আলার কিতাব ও আমার সুন্নাত”। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক-হা: ১৩৯৫, হাকিম-সহীহ হা: ২৯১] * * *

হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলর্মুরিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

by shahidullah on February ২৪, ২০১৩

in আরবী, আল হাদীস, বাংলা, বিবিধ

হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলর্মুরিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
পি.ডি.এফ ফরমেটে ডাউনলোড করুন:

ইসলাম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রদত্ব একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। এ জীবন ব্যবস্থার মূল গাইড হল আল- কুরআনুল কারীম। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
(شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ)
‘‘রমাযান মাস এতে মানুষের দিশারী (গাইড) এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কুরআন মাজীদ অবর্তীর্ণ হয়েছে।’’ (১) কুরআনে ইসলামের বিষয় সমূহ স্ববিস্তারে আলোচনা করা হয়নি তাই এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিবরণ হল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীস। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
( وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ )
‘‘এবং তোমার প্রতি কুরআন অবর্তীর্ণ করেছি। মানুষকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বিবরণ দেয়ার জন্য যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা করে।’’ (২) মূলতঃ কুরআন ও হাদীস উভয়ই আল্লাহর পক্ষ হতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাপ্ত হয়েছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: ( إنى أوتيت الكتاب ومثله معه ) ‘‘ আমি কিতাব (কুরআন) এবং উহার সাথে অনুরূপ (হাদীস আল্লাহর প হতে) প্রাপ্ত হয়েছি।’’ (৩) আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন:
( وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا )
‘‘ রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।’ (৪) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বক্তব্য, কর্ম ও সম্মতির মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিয়েছেন তার নামই হাদীস। হাদীসও ওয়াহি- এর অন্তভুর্ক্ত। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
( وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى )
‘‘সে মনগড়া কথা বলেনা, বরং ইহা ওয়াহি যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।’’ (৫) সুতরাং ইসলামী জীবনব্যবস্থায় কুরআনের পরই দ্বিতীয় গাইড বা দিশারী হল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীস। বিশুদ্ধ সূত্রে হাদীস প্রমাণিত হলে তা মানা অপরিহার্য।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:
(كل أمتى يدخلون الجنة الإ من أبى قالوا يارسول الله ومن يأبى قال من أطاعنى دخل الجنة ومن عصانى فقد أبى)
‘‘ আমার সকল উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে তারা ব্যতীত। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: কারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে ? তিনি বললেনঃ যে আমার অনুসরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অনুসরণ করেনা অমান্য করে সেই অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।’’ (৬)
অতএব ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় কুরআন ও হাদীসের কোন বিকল্প নেই। আবার শুধু কুরআন বা শুধু হাদীসের মাধ্যমেও হতে পারে না বরং কুরআনের সাথে হাদীস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, উভয়েরই অনুসরণ অপরিহার্য। কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর অবর্তমানে সাহাবীদের যুগের শেষের দিকে কুরআন হাদীসের অনুসরণের গুরুত্ব যথার্থ থাকলেও নির্ভরযোগ্যতা ও আস্থার দিক থেকে উভয়ের মাঝে বিরাট পার্থক্য দেখা যায়। কুরআনুল কারীম সংরণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলা গ্রহণ করেন, তিনি বলেন:
( إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ )
‘‘ আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই উহার সংরক।’’ (৭) কুরআন আল্লাহর প্রত্য সংরণে থাকায় নির্ভরযোগ্যতা ও আস্থায় আঘাত হানার চেষ্টা করলেও কেউ সফল হতে পারেনি এবং পারবেও না। কিন্তু হাদীসের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম, যার ফলে সার্থ্যান্বেষীমহল এবং ইসলামদ্রোহী অপশক্তি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও প্রসিদ্ধ সাহাবীদের বরাতে বহু জাল-বানোয়াট হাদীস তৈরীর পায়তারা শুরু করে। প্রত্য না হলেও পরোভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির মাধ্যমে হাদীস সংরণ করেন। হাদীস সংরণে বিশেষ ব্যক্তিদের অবদানে যে শাস্ত্র তৈরী হয় তারই নাম হল ‘‘মুসতালাহুল হাদীস/مصطلح الحديث ।’’ (৮)
( مصطلح الحديث ) মুসত্বালাহুল হাদীস প্রাথমিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত:
(১)علم الرواية (ইলর্মুরিওয়ায়াহ্) যার আলোচ্য বিষয় হল হাদীসের মতন বা মূল ভাষ্য। (২)علم الدراية (ইলমুদ্দিরায়াহ্) যার আলোচ্য বিষয় হল হাদীসের সনদ বা সূত্র। علم الدراية বা হাদীস শাস্ত্রের সনদ বিষয়ক আলোচনার নামইعلم الرجال । (ইলর্মুরিজাল) যার মূল আলোচ্য বিষয় হল হাদীস বর্ণনাকারীগণ গ্রহণযোগ্য না অগ্রহণযোগ্য। (৯) ‘ইলর্মুরিজালের পরিচয়, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিম্নে আলোকপাত করা হল।

ইলর্মুরিজাল( علم الرجال ) এর পরিচয়:
‘ইলর্মুরিজাল এর অপর নাম ‘ইলমুল ইস্নাদ বা ‘ইলমুস্ সানাদ, অর্থাৎ ইস্নাদ বা সনদ সম্পর্কীয় জ্ঞান গবেষণাকেই ‘ইলর্মুরিজাল বলা হয়। মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়الاسناد বাالسند হল ঃ- ( سلسلة الرجال الموصلة للمتن) ‘‘ ব্যক্তিবর্গের ধারাবাহিকতা যা মতনে (হাদীসের মূলভাষ্যে) পৌঁছে দেয়।’’ (১০) অর্থাৎ যে সমস্ত হাদীস বর্ণনাকারীর মাধ্যমে হাদীসের মূলভাষ্যে পৌঁছা যায়, এরই নামالاسناد বাالسند বাالرجال , আর বর্ণনাকারীদের নিয়ে যে জ্ঞান-গবেষণা তাকেই বলা হয় ‘ইলর্মুরিজাল( علم الرجال ) । (১১)

‘ইলর্মুরিজালের সূচনা:
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে ‘ইলর্মুরিজাল এর আলোচনা স্থান পেলেও প্রয়োজন না থাকায় কার্যসূচনা ঘটেনি। কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর পরই হাদীস বর্ণনার সত্যতা যাচাই বাছাই প্রয়োজন দেখা দিলে ‘ইলমুররিজাল এর সূচনা হয়। সহীহ মুসলিমে এসেছে সাহাবী আবূ সাঈদ খুদ্রী (রহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা আমরা সাহাবী উবাই বিন কা’ব (রা) এর মজলিসে বসে ছিলাম, হঠাৎ আবূ মূসা আশ‘আরী (রা) ভীত হয়ে আমাদের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন: আমি আল্লাহর ওয়াসতে বলছি, আপনাদের মাঝে কি এমন কেউ আছেন? যিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘ তিন বার অনুমতি প্রার্থনা করবে, যদি অনুমতি দেয় যাবে, নচেত ফিরে আসবে’’। উবাই (রা) বললেনঃ বিষয়টা কি? আবূ মূসা (রা) বলেন: আমি গতকাল উমার (রা) এর কাছে তিন বার অনুমতি প্রার্থনা করেছি, অনুমতি পাইনি তখন ফিরে চলে গেছি। অতঃপর আজকে তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম যে, গতকাল আমি আপনাকে তিনবার সালাম দেয়ার পর ফিরে গেছি। উমার (রা) বলেনঃ হ্যাঁ আমরা শুনেছিলাম, কিন্তু খুব ব্যাস্ত ছিলাম। তবে তুমি কেন অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত অনুমতি চাইতে থাকলে না? আবূ মূসা (রা) বললেন: আমি রাসূল (সা) হতে যেভাবে শুনেছি সেভাবেই অনুমতি চেয়েছি। (অর্থ্যাৎ তিনবার সালামের পর ফিরে যেতে হবে।) তখন উমার (রা) বললেন:‘‘আল্লাহর কসম করে বলছি: তুমি তোমার সাক্ষী উপস্থিত কর না হলে তোমাকে কঠিন শাস্তি দিব’’। উবাই (রা) আবূ মূসা (রা) কে বললেনঃ হ্যাঁ আমাদের সবচেয়ে ছোট মানুষই এ সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট, হে আবূ সাঈদ তুমি যাও। অতঃপর আমি উমার (রা) এর কাছে গেলাম এবং বললাম: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এরূপ বলতে শুনেছি। (১২)
ইমাম নববী (রহ) বলেন: মূলতঃ উমার (রা) সাহাবী আবূ মূসা (রা) এর সততায় কোন সন্দেহ পোষণ করেননি বরং তিনি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যাতে বিদআতী, মিথ্যুক ও মুনাফিকরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে মিথ্যাচার ছড়াতে না পারে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে মিথ্যা ও জাল হাদীসের পথ বন্ধ করার জন্যই তিনি এ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে ‘ইলমুররিজাল এর সূচনা করেন। (১৩) ইমাম ইবনু হিব্বান (মৃত্যু ৩৫৪ হিঃ) (রহ) বলেন:
( وهذان اول من فتش عن الرجال فى الرواية وبحثاعن النقل فى الأخبارثم تبعهماالناس على ذالك –)
‘‘এ দু’জনই (আবূ বকর ও উমার [রা]) (১৪) সর্ব প্রথম হাদীসের ক্ষেত্রে রিজাল বা বর্ণকারীদের এবং বর্ণনা সম্পর্কে যাচাই বাছাই ও গবেষণা শুরু করেন অতঃপর অন্যরা তাঁদের অনুসরণ করে অগ্রসর হন। (১৫)’’
সুতরাং ‘ইলমুররিজালের সূচনা সাধারণ কোন মুহাদ্দিস এমনকি সাধারণ সাহাবীদের হতেও নয়, বরং খোলাফায়ে রাশেদিনের শিরমোনি আবূ বকর ও উমার রা হতেই এর বরকতময় সূচনা ঘটেছে। অতঃপর তার পরিধি বিস্তার লাভ করেছে।

‘ইলর্মুরিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:
‘ইলর্মুরিজাল একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং হাদীসশাস্ত্রে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এক কথায় বলা যেতে পারে যার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্থান পেয়েছে পবিত্র কুরআনে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীসে, সাহাবী ও তাবিঈদের বক্তব্যে এবং মুহাদ্দিসদের গবেষণায় এমন বিষয়কে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। ‘ইলমুররিজালের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অতি সংপ্তিভাবে নিম্নে আলোচনা করা হল:

(ক) কুরআনের আলোকে ‘ইলর্মুরিজাল:
অল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا )
“হে মুমিনগণ ! যদি কোন ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোন বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ।” (১৬)
আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিনদের নির্দেশ দেন যে, বার্তা বাহক যদি ন্যায় নিষ্ঠাবান না হয় তাহলে তার বার্তা পরীক্ষা না করে গ্রহণ করা যাবে না। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীসের সর্বপ্রথম বাহক হলেন সাহাবীগণ, তাঁরা সকলেই আদিল বা ন্যায় নিষ্ঠাবান ছিলেন, তাই নির্দিধায় তাঁদের বর্ণনা গ্রহনযোগ্য ছিল। কিন্তু তাঁদের পরবর্তী যুগে হাদীস বর্ণনাকারীগণ সকলেই আদিল বা ন্যায় নিষ্ঠাবান ছিলেন না, বরং তাদের মাঝে ফাসিক-পাপাচার এমনকি ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীও ছিল। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে হাদীস গ্রহণে ‘ইলমুররিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। (১৭) আলোচ্য আয়াতের আলোকে ইমাম ইবনু কাসীর (রহ) ও ইমাম কুরতুবী (রহ) ‘ইলমুররিজালের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করেন। (১৮)

(খ) হাদীসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আলোকে ‘ইলমুররিজালঃ
‘ইলমুররিজালের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে অনেক হাদীস এসেছে যার নমুনা এখানে অতিসংক্ষেপে কিছু উল্লেখ করা হল।
(১(عن ابى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من كذب علىَّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار )
সাহাবী আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার ব্যাপারে মিথ্যা বলবে সে যেন জাহান্নামে তার স্থান নির্ধারণ করে নেয়।” (১৯)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাপারে পে বা বিপে সকল ক্ষেত্রে মিথ্যা হাদীস বলা সকলের ঐকমত্যে হারাম। (২০) অতএব হাদীস পেলেই বর্ণনা করা যায় না বরং তা সত্য না মিথ্যা যাচাই করা অপরিহার্য। এজন্যই প্রয়োজন ‘ইলমুররিজালের। সাহাবীগণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে অনেক হাদীস শুনলেও ত্র“টির ভয়ে অনেকেই সব হাদীস বর্ণনা করেননি, যেমন- সাহাবী আনাস বিন মালিক (রা) (২১) ও সাহাবী আব্দুল্লাহ্ বিন যুবাইর (রা) (২২) প্রমুখ সাহাবীগণ।
(২) (عن ابى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كفى بالمرء كذبا أن يحدث بكل ما سمع )
প্রসিদ্ধ সাহাবী আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: ‘‘কোন ব্যক্তি মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই বর্ণনা করবে।” (২৩) অর্থাৎ সত্য- মিথ্যা, বাস্তব- অবাস্তব ও হক- বাতিল পরীা-নিরীা ছাড়াই নির্বিচারে শুনামাত্রই হাদীস বর্ণনা করা মিথ্যুক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং হাদীস বর্ণনার বিষয়টি খুব সহজ নয়। হাদীসটির সকল দিক, বিশেষ করে রিজাল বা বর্ণনাকারীগণ ন্যায়- নিষ্ঠাবান কি না তা বিচার করা অত্যাবশ্যক। অতএব হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলমুররিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বলার অপো রাখেনা।
(৩)( عن ابى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى أخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الأحاديث بمالم تسمعوا انتم ولا أباؤكم ، فإياكم وإياهم لايضلونكم ولايفتنونكم )
সাহাবী আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: ‘‘শেষ যুগে কতক মিথ্যুক দাজ্জালের (২৪) আগমন ঘটবে যারা তোমাদের কাছে এমন এমন হাদীস নিয়ে আসবে যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরাও কখনো শুনেনি।’’
অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সাবধান হয়ে যাও তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং ফিতনা-ফাসাদে ফেলতে না পারে।” (২৫) অর্থাৎ মিথ্যা ও জাল বানোয়াট হাদীসের মাধ্যমে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে। এ হাদীস প্রমাণ করে যে, কতক মিথ্যুক অসৎ মানুষ হাদীসের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের তৈরী করা মিথ্যা জাল হাদীস মুসলিম সমাজে প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্ত সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাবে। ইহা অবশ্যই ঘটবে। কারণ ইহা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভবিষ্যতবাণী কোন কাল্পনিক কথা নয়। এমতাবস্থায় মুসলিম সমাজ যদি যাচাই- বাছাই, পরীক্ষা- নীরিক্ষা ছাড়াই হাদীস গ্রহণ করে তবে অবশ্যই বিভ্রান্ত ও ফিৎনার শিকার হবে।
অতএব রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ ও হুঁসিয়ারীর আলোকে হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলমুররিজালের প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন এমন কি এর কোন বিকল্প নেই বললেও কোন ত্র“টি হবেনা।

(গ) সাহাবীদের বক্তব্যের আলোকে ‘ইলর্মুরিজাল:
সাহাবীদের যুগে ‘ইলর্মুরিজালের কোন প্রয়োজনবোধ না হলেও তাঁদের পরবর্তী যুগে ইহা অতিজরুরী বিষয় হিসাবে তাঁরা (সাহাবীগণ) সতর্কতামূলক ‘ইলমুররিজালের সূচনা করেন, যেমন- আবূ বকর (রা) ও উমার (রা) হাদীস গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করেন। (২৬) বিশেষ করে সাহাবীদের যুগের শেষের দিকে ‘ইলর্মুরিজালের খুবই গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
ইমাম মুসলিম (রহ) স্বীয় সনদে বর্ণনা করেন:
عن مجاهد قال جاء بشيربن العدوى إلى ابن عباس رضي الله عنه فجعل يحدث ويقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فجعل ابن عباس لا يأذن لحديثه ، ولاينظرإليه ، فقال : ياابن عباس ! مالى أراك لاتسمع لحديثى ؟ احدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاتسمع ، فقال ابن عباس إناكنا مرة سمعنا رجلا يقول : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتدرته أبصارنا ، وأصغينا إليه بأذاننا ، فلما ركب الناس الصعب والذلول ، لم نأخذ من الناس إلاما نعرف
“প্রসিদ্ধ তাবেঈ মুজাহিদ হতে বর্ণিত, একদা বাশীর বিন কাব আল আদাবী সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) এর কাছে আসলেন এবং হাদীস বর্ণনা শুরু করলেন, বলতে লাগলেন ঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ইত্যাদি। কিন্তু সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) তাকে হাদীস বর্ণনার কোন সুযোগ দিলেন না। এমনকি তার দিকে দৃষ্টিপাতও করলেন না। বাশীর বিন কা’ব বললেন: হে ইবনু আব্বাস! কি ব্যাপার আপনি আমার হাদীস শুনছেন না কেন? আমি আপনাকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে হাদীস বর্ণনা করছি, আর আপনি কোন কর্ণপাত করছেন না? জবাবে ইবনু আব্বাস (রা) বলেন ঃ প্রথম প্রথম কোন ব্যক্তিকে যখনই বলতে শুনতাম যে ‘‘রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সাথে সাথে তার কথায় আমরা মনোযোগী হতাম এবং খুব গুরুত্ব দিয়ে তার কথা শুনতাম, কিন্তু মানুষ যখন বিভিন্ন ছলচাতুরি শুরু করল, তখন হতে আমাদের জানা বিষয় ছাড়া সাধারণ মানুষ হতে অন্য কিছু শুনিনা এবং গ্রহণ করিনা।” (২৭) অতএব বলার অপো রাখেনা যে, সাহাবীগণ হাদীস গ্রহণে শুধু ‘ইলমুররিজালের সূচনাই করেননি, বরং কঠোর নীতি অবলম্বন করেছেন। সাহাবীদের যুগেই যদি এরূপ হয় তাহলে আমাদের যুগে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম হওয়াই স্বাভাবিক।

(ঘ) তাবেঈদের বক্তব্যের আলোকে ‘ইলর্মুরিজাল:
সাহাবীদের যুগ শেষ হওয়ার পাশাপাশি হাদীসকে কেন্দ্র করে বিদআতীদের অসারতা আরো বৃদ্ধি পেলে তাবেঈগণ ‘ইলর্মুরিজালের বিষয়টি আরো বেশী গুরুত্ব দেন। প্রসিদ্ধ তাবেঈ মুহাম্মদ বিন সীরীন (রহ – মৃঃ ১১০হিঃ) বলেন ঃ
(لم يكونوا يسألون عن الإسناد فلما وقعت الفتنة ،قالوا : سموا لنا رجالكم ، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم وينظر إلى أهل البدع فلايؤخذ حديثهم )
“হাদীসের সনদ বা বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে (খুব বেশী) জিজ্ঞাসাবাদ করা হত না, কিন্তু যখন (কাদেরীয়া, মুরজিয়া, জাবরিয়া ও রাফেযীয়া ইত্যাদি বিদআতের) ফিতনা প্রকাশ পেল তখন হাদীস বর্ণনাকারীকে বলা হত ঃ তোমাদের যারা হাদীস বর্ণনা করেছে তাদের নাম উল্লেখ কর। অতঃপর ল করা হয়- যদি সুন্নাহ্পন্থী হয় তাহলে তাদের হাদীস গ্রহণ করাহত, আর যদি বিদআতী হয় তাহলে তাদের হাদীস বর্জন করা হত। (২৮)
তিনি আরো বলেন ঃ
( إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم )
“নিশ্চয় হাদীসের জ্ঞান হল দীনের অন্যতম অংশ অতএব ভালভাবে ল্য কর, তোমরা কাদের থেকে তোমাদের দীন গ্রহণ করছ।” (২৯)
সুলাইমান বিন মূসা বলেন: আমি তাবেঈ ত্বাউস (রহ) এর সাাত পেয়ে জিজ্ঞাসা করলামঃ উমুক ব্যক্তি আমাকে এরূপ এরূপ হাদীস বর্ণনা করছেন, তিনি উত্তরে বললেন ঃ যদি সে ন্যায় নিষ্ঠাবান ও নির্ভরযোগ্য হয় তাহলে তার হাদীস গ্রহণ কর, (আর না হলে গ্রহণ করনা)। (৩০)
প্রসিদ্ধ তাবেঈদের এরূপ সতর্কবাণী ও নির্দেশনায় প্রমাণিত হয় যে, হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলমুররিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
(ঙ) মুহাদ্দিসদের বক্তব্যের আলোকে ‘ইলর্মুরিজাল:
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমকে প্রত্যভাবে সংরণ করেন, আর হাদীসকে প্রত্যভাবে না হলেও পরোভাবে মুহাদ্দিসদের ‘ইল্মুল্ইস্নাদ বা ‘ইলর্মুরিজালের মাধ্যমে সংরণ করেছেন, যেমন – মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ্ বিন মুবারক (রহ – মৃঃ ১৮১ হিঃ) বলেন:
( الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء )
“হাদীসের সনদ/সূত্র দীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যদি এরূপ বর্ণনার ব্যবস্থা না থাকত তাহলে যার যা ইচ্ছা (হাদীসের নামে) তাই বলত।” (৩১)
সনদ অর্থই ‘ইলর্মুরিজাল, ‘ইলর্মুরিজালের বাছ-বিচার থাকলে যার যা ইচ্ছা তা বলতে পারে না, অথবা বলে ফেললেও তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
মুহাদ্দিস ইমাম সুফইয়ান সাওরী ([রহ] – মৃঃ ১৬১ হিঃ) বলেন:
( الإسناد سلاح المؤمن إذالم يكن معه سلاح فبأى شيئ يقاتل ؟ )
“ইসনাদ বা ‘ইলমুররিজাল হল মুমিন ব্যক্তির অস্ত্র, যদি তার অস্ত্রই না থাকে তাহলে কি দ্বারা লড়াই করবে।” (৩২) অর্থাৎ ‘ইলমুররিজাল বিহীন ব্যক্তি অস্ত্রহীন যোদ্ধার ন্যায়, অস্ত্রহীন যোদ্ধা যেমন প্রতিরোধ তো দূরের কথা, আত্মরাই তার জন্য কঠিন হয়ে যায়, তেমনি ‘ইলমুররিজাল ছাড়া নিজের ঈমান-ইসলামকেও ঠিক রাখা কঠিন, কারণ এ বিদ্যার অভাবে হাদীসের ন্যায়-অন্যায়, দুর্বল- সবল পার্থক্য করা সম্ভব হয় না ফলে রাসূল (সা) এর নামে বানোয়াট জাল হাদীসের ধোকায় পড়ে ঈমান- আমল ন®ট হওয়ার উপক্রম হয়। তাই হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলমুররিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
এমনিভাবে মুহাদ্দিসগণ ‘ইলমুররিজালকে শুধু স্মৃতির পাতায় নয় বরং কাগজের পাতায় সংকলন করে তার ব্যাপকতা ঘটিয়েছেন যারা এ বিষয়ে সংকলন ও সংগ্রামে চির স্মরণীয়- তাদের উল্লেখযোগ্য যেমন- ইমাম শাফেঈ (মৃঃ ২০৪ হিঃ), ইমাম আহ্মাদ (মৃঃ ২৪১ হিঃ), ইমাম দারেমী (মৃঃ ২৫৫ হিঃ), ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বুখারী (মৃঃ ২৫৬ হিঃ), ইমাম মুসলিম (মৃঃ ২৬১ হিঃ), ইমাম আবূ যুর‘আহ আরারাযী (মৃঃ ৩৬৪ হিঃ), ইমাম ইবনু হিব্বান (মৃঃ ৩৫৪ হিঃ), ইমাম হাফিয আল মিয্যী (মৃঃ ৭৪২ হিঃ), ইমাম হাফিয শামসুদ্দিন আয্যাহাবী (মৃঃ ৭৪৮ হিঃ), ও ইমাম হাফিয ইবনু হাজার আল ‘আসকালানী (মৃঃ ৮৫২ হিঃ), প্রমুখ রিজালবিদগণ (রাহেমাহুমুল্লাহ)।
উপসংহার ঃ পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, হাদীস ইসলামী শরীয়ার অন্যতম উৎস, হাদীস ছাড়া শুধু কুরআন দিয়ে ইসলাম পালন সম্ভব নয়, অবশ্যই কুরআনের পাশাপাশি হাদীসকে রেখে উভয়ের মাধ্যমে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সাহাবীদের যুগের শেষলগ্নে ইসলাম বিরোধী অপশক্তি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে প্রসিদ্ধ সাহাবীদের বরাতে মনগড়া, মিথ্যা ও জাল হাদীস তৈরী করে হাদীসশাস্ত্রকে কলুষিত করার অপচেষ্টা চালায়, অপর পে আল্লাহ তা‘আলার অসীম অনুগ্রহে এ চক্রান্তকে ব্যর্থ করতে শুরু হয় হাদীস বর্ণনাকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের সততা ও নির্ভর যোগ্যতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এর নামই হল ‘ইলমুল্ইস্নাদ বা ‘ইলর্মুরিজাল। যার সূচনা হয় সাহাবীদের যুগে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনের তাগিদে এ জ্ঞান গবেষণার বিস্তার লাভ হয়। হাদীসশাস্ত্রে ‘ইলমুররিজাল এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কুরআন, হাদীস, সাহাবী, তাবেঈ ও মুহাদ্দিসদের বক্তব্যের আলোকে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় লবন ছাড়া যেমন খাদ্য অপরিপূর্ণ ও অনুপযুক্ত থাকে তেমনি ‘ইলমুররিজাল ছাড়া হাদীস অপরিপূর্ণ ও আমলের অনুপযুক্ত। সুতরাং হাদীসশাস্ত্রকে নিষ্কলুষ করতে ‘ইলর্মুরিজালের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। হাদীসকে গ্রহণযোগ্য করতে এর কোন বিকল্প নেই। আল্লাহ্ আমাদের বিশুদ্ধ হাদীস গ্রহণের লক্ষে এ জ্ঞান গবেষণায় আরো অগ্রসর হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন !

লেখক:
শাইখ আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী
অধ্যক্ষ- মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা-১০০০।
নিয়মিত আলোচক- পিস.টি.ভি বাংলা।
প্রেসিডেন্ট: ইসলামিক এডুকশন এ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

মোবাইল: ০১৭১৫৩৭২১৬১

এডিটর এবং মডারেটর:
মুহাম্মাদ আবূ তালিব বিন ইসহাক আলী
শিক্ষক- মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: 01922082225
Skype: abu.talib851

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

{ 0 comments… add one now }