~~|| ||আদ-দ্বীন আল-ইসলাম ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম|| ||~ ~* * * “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অগ্রে কোন কিছু প্রাধান্য দিও না, আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন। ” [সূরা আল হুজরাত : ১] * * * “অতঃপর তোমার রবের কসম তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফায়সালাকারী হিসাবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারেও তারা কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবূল করে নিবে।” [সূরা নিসা : ৬৫] * * * “যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” [সূরা নিসা : ৫৯] * * * সাহাবী আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন : “তোমাদের মাঝে দু’টি বিষয় রেখে গেলাম যতক্ষণ সে দু’টি আঁকড়ে ধরে থাকবে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহ তা’আলার কিতাব ও আমার সুন্নাত”। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক-হা: ১৩৯৫, হাকিম-সহীহ হা: ২৯১] * * *

“ঈদ আনন্দ অমুসলিমদের নীতিতে নয়, বরং হতে হবে ইসলামী পদ্ধতিতে”

by shahidullah on August ৫, ২০১২

in আমাদের প্রবন্ধ, আরবী, ঈদ, বাংলা, বিবিধ, বিবিধ, সিয়াম

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوَاْ إِن تُطِيعُواْ الَّذِينَ كَفَرُواْ يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُواْ خَاسِرِينَ – بَلِ اللّهُ مَوْلاَكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ
আয়াতের সরল অনুবাদ:
“হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা কাফিরদের অনুসরণ কর তাহলে তারা তোমাদেরকে পিছনে ফিরিয়ে দিবে ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরং আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত অভিভাবক এবং তিনিই সর্বৎকৃষ্ট সাহায্যকারী।” (সূরা আলে ইমরান:১৪৯-১৫০)

আয়াত অবতরণের প্রেক্ষাপট:
আলোচ্য আয়াত দু’টি সূরা আলে ইমরানের অন্তর্গত। সূরা আলে ইমরান মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। মদীনায় ইয়াহুদ ও মুনাফিক সমাজ মুসলমানদেরকে বিভিন্ন কলা কৌশলে কুফরির দিকে নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকত। ফলে আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদারদেরকে অত্র আয়াতে সতর্ক করেছেন যেন তারা ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের অপকৌশলে পতিত না হয়। ববং ঈমানদারগণের প্রকৃত বন্ধু ও সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ তা‘আলা তাই তাদের উচিত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করা।
আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
আলোচ্য আয়াতে দুটি বিষয়ের আলোচনা স্থান পেয়েছে: (১) অমুসলিম তথা ইয়াহুদ, খ্রীষ্টান, মুশরিক ও কাফিরদের অনুসরণ অনুকরণ ঈমানদারকে কুফরীর দিকে নিয়ে যাবে বলে ঈমান হারিয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (২) ঈমানদারের প্রকৃত অভিভাবক ও সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ তা‘আলা, তাই একনিষ্ঠভাবে শুধু তাঁরই আনুগত্য স্বীকার করতে হবে।
আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
(১৪৯) আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে ঈমাদারগণ যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর …। মূলতঃ ঈমান ও কুফর দু’টি বিপরীতমূলক এবং সাংঘর্ষিক। অতএব কখনই এ দু’টি একত্র হতে পারেনা। একটিকে স্থান দিলে অপরটি বিদায় নিবে। যারা ঈমানকে স্থান দিয়েছে তাদের কাছ থেকে কুফর বিদায় নিয়েছে, এমতাবস্থায় যদি আবার কুফরের স্থান দেয়া হয় তাহলে অবশ্যই ঈমান বিদায় নিবে। আর ঈমানদারের ঈমান বিদায় নেয়া হলো ইহকাল ও পরকালে সর্বচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
কাফিরদের অনুসরণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুসলিম সমাজ ঈমান-ইসলামে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা সংস্কৃতি, স্বভাব-সভ্যতা ও বেশ ভূষণ সকল ক্ষেত্রে তারা পরমুখী হয়ে গেছে, এ সুযোগে ইসলামের শত্রু“ ইয়াহুদ, খ্রীষ্টান, মুশরিক ও কাফির সকলেই স্বীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি, স্বভাব সভ্যতা ও বেশ ভূষণের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে মুসলিম সমাজে। এসবের অনুসরণের মাধ্যমেই মুসলিম সমাজ কাফিরদের অনুসারী বনে যাচ্ছে, শেষ পর্যায় নিজের ঈমান ইসলামকে হারিয়ে সর্বহারা হয়ে যাচ্ছে। অমুসলিমরা তাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিস্তারের জন্য সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করছে মুসলিম সভ্যতার ঈদ উৎসবগুলোকে। দারসের মূল বিষয় বস্তু ঈদ উৎসব, যার আলোচনা আয়াতের ব্যাখ্যার পরই হবে ইনশাআল্লাহ।
(১৫০) বরং আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত অভিভাবক …। অমুসলিম যারা আজ ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতির শ্লোগান গাইছে প্রকৃত পক্ষে তারা মুসলিমদের সাহায্য সহানুভূতি ও কল্যাণ চায়না, তারা চায় মুসলিমদের উপর নিজেদের মোড়লগিরী প্রতিষ্ঠিত করতে এবং মুসলিমদের জন্য প্রকৃত পক্ষে যিনি সাহায্যকারী ও কল্যাণকামী তিনি হলেন মহান আল্লাহ তা‘আলা, তাই মুমিনদের অপরিহার্য কর্তব্য হলো একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উপরই আস্থাশীল হওয়া এবং শুধু তাঁরই আনুগত্য করা। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন, আমীন।
ইসলামে ঈদ উৎসব:
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা অতএব এর মাঝে আনন্দ বেদনা সবই রয়েছে। তবে এ আনন্দ বেদনা মানুষের প্রকৃতির আলোকে নয়, যেন এ আনন্দ বেদনা সুফল নিয়ে আসে, কুফল হতে বিরত রাখে, সে জন্যই এ আনন্দ বেদনা হতে হবে ইসলামী পদ্ধতিতে, জাহেলী সভ্যতায় নয়।
عن انس رضي الله عنه قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال : ماهذان اليومان؟ قالوا : كنا نلعب فيهما فى الجاهلية، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : قد أبدلكم الله بهما خيرامنها : يوم الاضحى ويوم الفطر.
আনাস (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: যখন নাবী (সা) মদীনায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন মদীনাবাসীরা বৎসরে নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেলা-ধূলার মাধ্যমে আনন্দ উৎসব পালন করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এ দু’টি দিনের রহস্য কি? তারা জবাব দিল জাহেলী যুগে আমরা ঐ দু’টি দিনে খেলা-ধূলা করতাম তাই এখনও করছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: আল্লাহ তা‘আলা ঐ দু’টি দিনের পরিবর্তে তোমাদেরকে আরো উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন: একটি ঈদুল আযহার দিন, অপরটি ঈদুল ফিতর এর দিন। আবু দাউদ হাদীস নং ১১৩৪, সহীহ, মিশকাত হাদীস নং ১৪৩৯।
এ হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামেও ঈদ উৎসব রয়েছে, তবে তা জাহেলী সভ্যতার ঈদ উৎসবের মত নয়, বা অন্য জাতির উৎসবেরও মত নয়, বরং তা বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তাইতো নাবী (সা) বলেন:
فإن لكل قوم عيدا وإن هذا عيدنا
“প্রতিটি জাতির ঈদ উৎস রয়েছে আর ইহা হল আমাদের ঈদ উৎসব। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিম ব্যক্তির কোন কথা, কাজ অনর্থক নয়, ঠিক তেমনি ঈদ উৎসবও অনর্থক নয়, সবই ইবাদাত। বরং মুসলিমদের ঈদ উৎসব হল সকল ইবাদাতের প্রতীক। গোটা একটি মাস আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্যে অতিবাহিত করে সার্থক ও সফলতার ভাব প্রকাশ করবে ঈদ উৎসবের মাধ্যমে। ইমাম হাসান বসরী (রহ) বলেন, মুমিন ব্যক্তি যে দিনটিতে আল্লাহর অবাধ্যে লিপ্ত হবে না এবং আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার সাথে আবদ্ধ থাকবে সে দিনটিই হল তার ঈদ উৎসবের দিন। সুতরাং অন্যায় অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তির কখনও ঈদ আনন্দ হতে পারে না বরং ইহা হবে শয়তানের অনুচরদের আনন্দ উৎসব এবং মুসলিম ব্যক্তির বেদনা ও অনুশোচনার দিন।
হে মুসলিম হুশিয়ার!
দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, আজ মুসলিম সমাজে বিশেষ করে যুব সমাজ ইসলামী ঈদ উৎসব পালন করছে অমুসলিমদের নীতিতে, ঈদ হচ্ছে গান-বাজনা, নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ, টিভি, সিনেমা ইত্যাদিতে মগ্ন হওয়ার মাধ্যমে। কোন সন্দেহ নেই এ হলো ইসলামের শত্রু“দের এক গভীর ষড়যন্ত্র, যাতে তারা মুসলিম সমাজকে ইমান হতে বের করে নিতে পারবে। হে মুসলিম ভাই ও বোন! গভীর ভাবে লক্ষ্য করুন, আপনার রবের সতর্কবাণী, আল্লাহ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوَاْ إِن تُطِيعُواْ فَرِيقًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ يَرُدُّوكُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ – وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنتُمْ تُتْلَى عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَن يَعْتَصِم بِاللّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
“হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি কিতাব প্রাপ্তদের (ইয়াহুদী, খ্রীষ্টানদের) কোন দলের অনুসরণ কর, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদেরকে কাফিরে পরিণত করে দেবে। আর তোমরা কিভাবে কাফের হয়ে যাচ্ছ অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াতসমূহ এবং তোমাদের মাঝে রয়েছে আল্লাহর রাসূল (রাসূলে ইন্তেকালের পর তার হাদীস)।
আর যারা আল্লাহকে (তাঁর দীনকে) দৃঢ়ভাবে ধরবে অবশ্যই তারা হেদায়াত প্রাপ্ত হবে সঠিক পথের।” (সূরা আলে ইমরান: ১০০-১০১)। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের পরিবার-সন্তানদের ইসলামে প্রতিষ্ঠিত করুন।
আমীন!

লেখক:
(আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী)
অধ্যক্ষ-মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।
ও আলোচক – পিস.টি.ভি বাংলা।

এডিটর:
আবু তালিব
শিক্ষক-মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।
01726-942851

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

{ 0 comments… add one now }