~~|| ||আদ-দ্বীন আল-ইসলাম ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম|| ||~ ~* * * “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অগ্রে কোন কিছু প্রাধান্য দিও না, আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন। ” [সূরা আল হুজরাত : ১] * * * “অতঃপর তোমার রবের কসম তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফায়সালাকারী হিসাবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারেও তারা কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবূল করে নিবে।” [সূরা নিসা : ৬৫] * * * “যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” [সূরা নিসা : ৫৯] * * * সাহাবী আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন : “তোমাদের মাঝে দু’টি বিষয় রেখে গেলাম যতক্ষণ সে দু’টি আঁকড়ে ধরে থাকবে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহ তা’আলার কিতাব ও আমার সুন্নাত”। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক-হা: ১৩৯৫, হাকিম-সহীহ হা: ২৯১] * * *

মুসলমানদের বাৎসরিক উৎসব : ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্হা

by shahidullah on August ২, ২০১২

in আমাদের প্রবন্ধ, আরবী, ঈদ, বাংলা, বিবিধ, বিবিধ, সিয়াম

عن أنس رضى الله عنه قال قدم النبى صلى الله عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال ماهذان قالوا كنا نلعب فيهما فى الجاهلية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أبدلكم الله بهما خيرا منهما يوم الاضحى ويوم الفطر

হাদীসের সরল অনুবাদ:
প্রসিদ্ধ সাহাবী আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: যখন নবী (সা) মদীনায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন মদীনাবাসীরা বৎসরে নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দ উৎসব-পালন করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : এ দু’টি দিনের রহস্য কি? তারা জবাব দিল: জাহেলী যুগে আমরা ঐ দু’টি দিনে খেলাধুলা করতাম (তাই এখনও করছি)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ঐ দু’টি দিনের পরিবর্তে তোমাদেরকে আরো উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন: একটি ঈদুল আয্হার দিন, অপরটি ঈদুল ফিতর-এর দিন। আবূ দাউদ হাঃ নাঃ ১১৩৪, সহীহ মিসকাত হাঃ নাঃ ১৪৩৯।

হাদীসের রাবী পরিচিতি:
হাদীসটির বর্ণনাকারী প্রখ্যাত সাহাবী আনাস বিন মালিক (রা)। উপাধি খাদিমুর রাসূল বা রাসূল (সা)-এর খাদিম। পিতার নাম মালিক। তিনি একাধারে দশ বছর রাসূল (সা)-এর সেবা করার সৌভাগ্য লাভ করেন। বয়সের স্বল্পতার কারণে বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশ নিতে না পারলেও পরবর্তী সবকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১২৮৬টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে ১৬৮টি মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীস। প্রসিদ্ধ ছ’টি হাদীস গ্রন্থেই তাঁর হাদীস স্থান পেয়েছে। তিনি ৯২ অথবা ৯৩ হিজরীতে ১০০ ঊর্দ্ধ বয়সে ইন্তেকাল করেন। (তাকরীবুত্ তাহযীব-১/৯৪পৃ)

হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবী (সা) যখন মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করেন, তখন মদীনাবাসী নতুন মুসলমানদেরকে জাহিলী যুগের ঈদ উৎসবের দিনে আনন্দ-উৎসব করতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এ দু’টি দিনের রহস্য কি? তারা জবাব দিলেন : জাহেলী যুগের ঈদ-উৎসব হিসেবে তারা উক্ত দিন দু’টি উদযাপন করছেন। মুসলমানরা জাহেলী যুগের ঈদ উদযাপন করবে এটা রাসূলুল্লাহ (সা) মেনে নিতে পারলেন না। প্রতিবাদের স্বরে বলে ফেললেন: তোমরা একি কাজ করছ, অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে ঐ দু’দিনের পরিবর্তে আরো উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। একটি ঈদুল আয্হা, অপরটি ঈদুল ফিতর। অতএব মুসলমানদের ঈদ উৎসব হবে কেবলমাত্র দু’ঈদের দিনে। অন্য কোন দিনে তারা ঈদ উৎসব পালন করবে না। জাহেলী সভ্যতার ঈদের দিনেও নয় এবং অমুসলিম-মুশরিকদের ঈদের দিনেও নয়। অনুরূপ, জাহেলী অপসংস্কৃতির সাথে সাদৃশ্য রেখে ইসলামের নামে তৈরি করা যেমন ঈদে মিলাদুনবী, শবে-বরাত, শবে মিরাজ, জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী, চল্লিশা ইত্যাদি কোন দিনেই মুসলিম সমাজ ঈদ উৎসব পালন করতে পারে না। কারণ এগুলি কোন ইসলামী শরীয়াতসম্মত ঈদ নয়। ইসলামী শরীয়াতসম্মত বাৎসরিক ঈদ মাত্র দু’টি। যদি দুই এর অধিক হতো তাহলে অবশ্যই রাসূল (সা) প্রবর্তন করতেন। তিনি বললেন: আল্লাহ তোমাদের এ জাহেলী ঈদের পরিবর্তে আরো উত্তম দুটি ঈদের দিন দিয়েছেন। দুই-এর অধিক হলে রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্যই উল্লেখ করতেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পরে সাহাবায়ে কেরামগণও ঈদুল আয্হা ও ঈদুল ফিতর ছাড়া অন্য কোন বাৎসরিক ঈদ উদযাপন করেননি। অতএব ইসলামের নামে ঐ সব ঈদ চালু করা ইসলামের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিটি মুসলিমের উচিত ঐ সব নবাবিষ্কৃত বিদআত হতে বিরত থাকা। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন:
إياكم ومحد ثات الامور فان كل محد ثة بدعة وكل بدعة ضلالة
“সাবধান তোমরা ইসলামের নামে সকল নবাবিষ্কৃত (ইবাদত) হতে বিরত থাক। কেননা এরূপ প্রতিটি কাজই বিদআত আর প্রতিটি বিদআতই গুমরাহী বা পথভ্রষ্টতা।” (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহÑসহীহ)
হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইসলামের নামে নবাবিষ্কৃত বিদআত হতে বিরত থেকে সঠিক ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওকীক দান করুন। আমীন।
হাদীসের শিক্ষা:
১। ইসলামের প্রতিটি বিধান প্রবর্তিত হবে আল্লাহ এবং স্বীয় রাসূল (সা) হতে।
২। জাহিলী যুগের ও অমুসলিমদের সকল প্রকার ঈদ উৎসব ও সংস্কৃতি মুসলমানদের পালন করা বৈধ নয় বরং অবশ্যই বর্জনীয়।
৩। মুসলমানদের ইসলামী বাৎসরিক ঈদ মাত্র দু’টি: ঈদুল আয্হা ও ঈদুল ফিতর। এছাড়া বাকী সকল ঈদ শরীয়ত গর্হিত।
আল্লাহ আমাদের কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে ইসলাম মেনে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখক:
(আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী)
অধ্যক্ষ- মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।
ও আলোচক- পিস.টি.ভি বাংলা।

এডিটর:
আবু তালিব
শিক্ষক-মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

{ 1 comment… read it below or add one }

avatar 1 আহমাদ মুসা আগস্ট ১৫, ২০১২ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শাইখ আপনি আমার সাইট মাঝে মাঝে ভিজিট করবেন । আমরা আসলে ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না । তার পরও ইসলাম প্রচারের জন্য একটি সাইট খুলেছি । তাই আমাদের প্রয়োজন আপনাদের মত উস্তাদদের সহযোগীতা । আশা করি আপনি আমার সাইটে রেজিঃ করবেন , মাঝে মাঝে নজর দিবেন এবং আমাদের সু-পরামর্শ দিবেন ।