~~|| ||আদ-দ্বীন আল-ইসলাম ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম|| ||~ ~* * * “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অগ্রে কোন কিছু প্রাধান্য দিও না, আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন। ” [সূরা আল হুজরাত : ১] * * * “অতঃপর তোমার রবের কসম তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফায়সালাকারী হিসাবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারেও তারা কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবূল করে নিবে।” [সূরা নিসা : ৬৫] * * * “যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” [সূরা নিসা : ৫৯] * * * সাহাবী আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন : “তোমাদের মাঝে দু’টি বিষয় রেখে গেলাম যতক্ষণ সে দু’টি আঁকড়ে ধরে থাকবে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহ তা’আলার কিতাব ও আমার সুন্নাত”। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক-হা: ১৩৯৫, হাকিম-সহীহ হা: ২৯১] * * *

“কুরআন নাযিলের মাস রামাযান”

by shahidullah on July ২২, ২০১২

in আমাদের প্রবন্ধ, আরবী, বাংলা, বিবিধ, বিবিধ, সিয়াম

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

আয়াতের সরল অনুবাদ:
“রামাযান মাস, যাতে অবতীর্ণ করা হয়েছে মানব জাতির পথ প্রদর্শক হেদায়াতের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং (হক ও বাতিলের) প্রভেদকারী আল কুরআন। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, যে যেন রোযা রাখে, আর যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির সে অন্য সময় এ রোযা রাখবে। তোমাদের পক্ষে যা সহজ আল্লাহ তাই চান এবং তোমাদের পক্ষে যা কষ্টকর তা তিনি চান না। আর তোমরা যেন নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে আল্লাহ যে হেদায়াত দান করেছেন সে জন্য আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা কর এবং যেন তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর”। (আল বাকারাহ:১৮৫)

আয়াত অবতরণের প্রেক্ষাপট:
আলোচ্য আয়াতটি সূরাতুল বাকারাহ এর অন্তর্গত। মদীনার প্রথম যুগে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। দ্বিতীয় িজরীতে ১৮৪ নং আয়াতের মাধ্যমে রামাযানের রোযা ফরয হয়, কিন্তু কিছুটা শিথিলতা ছিল অর্থাৎ রোযা পালনে সামর্থবান ব্যক্তি রোযার বিনিময়ে ফিদিয়া প্রদান করলে যথেষ্ট হত। এর পরই সুস্থ ও স্বগৃহে বসবাসকারী ব্যক্তির রামাযান মাসে রোযা পালনের অপরিহার্য বিধান সহ এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

আয়াতের আলোচ্য বিষয়:
অত্র আয়াতে কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা স্থান পায়। (ক) রামাযান মাসেই নাযিল হয় হেদায়াতের আলোক বর্তিকা, সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী আল কুরআন। (খ) সুস্থ ও স্বগৃহে বসবাসকারী ব্যক্তির রামাযানের রোযা পালন করা অপরিহার্য। (গ) রামাযান মাসে অসুস্থ হলে এবং ভ্রমণে থাকলে অন্য সময় যখন সুস্থ হবে এবং স্বগৃহে ফিরবে তখন ফরয রোযা পালন করবে। (ঘ) আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের জন্য যা সহজ তাই চান, কখনও কষ্টকর ও অসাধ্য বিষয় চান না। (ঙ) সঠিক পথে হেদায়াত পাওয়ায় মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একান্ত কতর্ব্য।

আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ ….
রামাযান মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে কুরআন আল্লাহ তা‘আলা সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মদ (সা) এর উপর অবতীর্ণ করেন কুরআনুল কারীম। সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন: সর্বপ্রথম রামাযান মাসে কদরের রাত্রিতে প্রথম আসমানে সম্পূর্ণ কুরআন একত্রে নাযিল হয়, অতঃপর প্রথম আসমান হতে দীর্ঘ ২৩ বছরে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাসূল (সা) এর কাছে কুরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআন সমগ্র মানব জাতির জন্য হেদায়াত স্বরূপ, অতএব মানুষ হেদায়াত পেতে চাইলে বছরের বার মাসই কুরআন তিলাওয়াত, শিক্ষা-গবেষণা ইত্যাদি কুরআনী চর্চা নারী পুরুষ সকলেরই অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ যার মাধ্যমে আমি হেদায়াত পাব তাকেই যদি ভুলে যাই তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে রামাযান মাস হল কুরআন চর্চার অন্যতম মাস, নাবী (সা) নিজেও এমাসে তুলনামূলক বেশী কুরআন চর্চা করতেন, আমাদেরও সে পথেই অগ্রসর হওয়া উচিত।
فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ……..
কোন প্রাপ্ত বয়স্ক, বোধশক্তি সম্পন্ন সুস্থ ও স্বগৃহে বসবাসকারী রামাযান মাস পেলে রোযা পালন করা তার জন্য ফরজ। অবশ্য কেউ যদি রামাযান মাসে অসুস্থ হয়ে যায় অথবা বিশেষ প্রয়োজনে ভ্রমণে থাকে তাহলে তার উপর এ অবস্থায় রোযা পালন ফরয নয় তবে সুস্থ হলে এবং স্বগৃহে ফিরলে তাদের অবশ্যই রামাযান মাসের রোযা পূর্ণ করতে হবে।
يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
“আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য যা সহজ তাই চান এবং যা কষ্টকর তা তিনি চান না। মূলতঃ ইসলামের বিধান সবই মানুষের সাধ্যের অনুকুলে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا
আল্লাহ কাউকে সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেন না।” একই ভাবে রামাযানের ইবাদাত প্রাথমিক কিছু কষ্টকর থাকলেও পরবর্তীতে আল্লাহ তা সহজ করেছেন।
وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
রামাযান মাসের ইবাদান্তে যেন তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা কর কারণ তাঁর হেদায়াতের ফলেই সম্ভব রামাযান মাসে ইবাদাত পালনে সৌভাগ্য ও সাফল্য অর্জন করা। তাই শুধুমাত্র তারই বড়ত্ব ও কৃতজ্ঞতা। তাফসীর কারকগণ বলেন: এ তাকবীর হল ঈদের দিনের তাকবীর।
আসুন আমরা যেন কুরআন নাযিলের মাসে বেশী বেশী কুরআনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার প্রয়াস চালাই। কুরআন ও রামাযানের সম্পর্ক গভীর করে আখিরাতের কঠিন দিনে কুরআন ও রামাযানের সুপরিশ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনে চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখক:
(আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী)
অধ্যক্ষ- মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।
ও আলোচক- পিস.টি.ভি বাংলা

এডিটর:
আবু তালিব
শিক্ষক- মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা।

প্রবন্ধটি পড়ার পর শেয়ার করতে ভুলবেন না————

আপনার নেটওর্য়াকে শেয়ার করুন

{ 0 comments… add one now }